মূল অংশে যান
Tame Academy

ESG ও ভবিষ্যতের কর্পোরেট গভর্নেন্স

05 অক্টো 2026 তারিখে প্রকাশিত

ESG ও ভবিষ্যতের কর্পোরেট গভর্নেন্স

আমাদের কর্পোরেট গভর্নেন্স কী নিয়ে প্রথম লেখায় আমরা দেখেছিলাম গভর্নেন্স আসলে একটি প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জবাবদিহিতা ও নিয়ন্ত্রণের সামগ্রিক ব্যবস্থা। কিন্তু গভর্নেন্স স্থির কোনো বিষয় নয়, সময়ের সাথে সাথে এর চাহিদা বদলায়। এই নতুন দশ-পর্বের সিরিজে আমরা দেখব আগামী দিনে গভর্নেন্স কোন দিকে এগোতে পারে, ESG থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, জলবায়ু ঝুঁকি এবং আরও অনেক কিছু। শুরু করছি সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়, ESG দিয়ে।

বিজ্ঞাপনের জায়গা (সংরক্ষিত)

ESG আসলে কী, এবং গভর্নেন্সের সাথে এর সম্পর্ক

ESG হলো Environmental, Social এবং Governance, তিনটি ইংরেজি শব্দের আদ্যক্ষর, যা একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ফলাফলের বাইরে তার সামগ্রিক আচরণ মূল্যায়নের একটি কাঠামো। পরিবেশ, সমাজ এবং গভর্নেন্স, এই তিনটি ক্ষেত্রেই একটি প্রতিষ্ঠান কতটা দায়িত্বশীল, তা দিয়ে বিনিয়োগকারী, ক্রেতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা এখন প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি বিচার করতে চান। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ESG-র তৃতীয় অক্ষরটিই গভর্নেন্স, কারণ পরিবেশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বাস্তবায়নের জন্য একটি কার্যকর বোর্ড ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ কাঠামো ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়।

তিনটি স্তম্ভকে আলাদাভাবে দেখা যাক।

  • পরিবেশ (Environmental)। কার্বন নিঃসরণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও জ্বালানি ব্যবহার, এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার পরিকল্পনা।
  • সামাজিক (Social)। কর্মীদের অধিকার, কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা, সরবরাহ চেইনে মানবাধিকার এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা।
  • গভর্নেন্স (Governance)। বোর্ডের স্বাধীনতা, স্বচ্ছ রিপোর্টিং এবং নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, যা প্রথম দুই স্তম্ভকে বাস্তবে কার্যকর করে।

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, বিনিয়োগকারীরা কেন শুধু মুনাফার সংখ্যা না দেখে এখন ESG রিপোর্টও চাইছেন?

কারণ বড় বিনিয়োগকারীরা বুঝে গেছেন, পরিবেশগত বা সামাজিক ঝুঁকি উপেক্ষা করলে আজকের ভালো মুনাফা আগামী দিনে বড় আইনি জরিমানা, ক্রেতা হারানো বা সুনাম সংকটে বদলে যেতে পারে। তাই ESG তথ্য তাদের কাছে আসলে একটি দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি বিশ্লেষণের হাতিয়ার।

পরিবেশ (Environmental): বোর্ডের নতুন দায়িত্ব

আগে পরিবেশগত বিষয়গুলো সাধারণত প্রোডাকশন বিভাগের দায়িত্ব বলে বিবেচিত হতো, বোর্ডের আলোচনায় তেমন আসত না। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, আগামী দিনে এই চিত্র বদলে যাবে, এবং বোর্ডকে সরাসরি জলবায়ু ঝুঁকি, কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্য এবং পরিবেশগত বিনিয়োগ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করতে হবে। এই বিষয়টি আমরা এই সিরিজের একটি পরের লেখায়, Climate Risk Governance নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করব।

গল্পে বলি

বাংলাদেশের একটি মাঝারি আকারের পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের কথা ধরা যাক। বছরের পর বছর তারা মুনাফা বাড়ানোর দিকে মনোযোগী ছিল, কারখানার বর্জ্য পানি পরিশোধন ব্যবস্থা ছিল পুরনো এবং অপ্রতুল। একদিন তাদের সবচেয়ে বড় ইউরোপীয় ক্রেতা জানায়, আগামী মৌসুম থেকে সরবরাহকারী নির্বাচনের শর্তে একটি স্বীকৃত পরিবেশগত সার্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। হঠাৎ করেই প্রতিষ্ঠানটি বুঝতে পারে, তাদের বোর্ড কখনো পরিবেশগত বিনিয়োগ নিয়ে সুনির্দিষ্ট আলোচনাই করেনি। দ্রুত একটি নতুন effluent treatment plant-এ বিনিয়োগ এবং বোর্ডে নিয়মিত পরিবেশগত পর্যালোচনা চালু করার পরই তারা চুক্তি টিকিয়ে রাখতে পারে।

সামাজিক (Social): কর্মী, সমাজ ও সরবরাহ চেইন

সামাজিক স্তম্ভ মূলত প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ও বাইরে মানুষের সাথে সম্পর্কের মান নিয়ে কথা বলে। কর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি, লিঙ্গ সমতা এবং সরবরাহ চেইনে শিশুশ্রম বা জোরপূর্বক শ্রম না থাকা, এসবই এই স্তম্ভের অংশ। বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য এই স্তম্ভটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আন্তর্জাতিক ক্রেতারা প্রায়ই নিজেদের সরবরাহ চেইনে এই শর্তগুলো যাচাই করে থাকেন।

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, একটি কারখানার শ্রমিক নিরাপত্তা রেকর্ড কীভাবে পুরো কোম্পানির ঋণ পাওয়ার সুযোগকে প্রভাবিত করতে পারে?

অনেক আন্তর্জাতিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এখন ঋণ অনুমোদনের আগে শ্রম মান যাচাই করে, কারণ দুর্বল শ্রম পরিবেশ ভবিষ্যতে বড় আইনি ঝুঁকি বা উৎপাদন বন্ধের কারণ হতে পারে। তাই সামাজিক দায়বদ্ধতা এখন অনেক ক্ষেত্রেই আর্থিক ঝুঁকি মূল্যায়নের সরাসরি অংশ।

গভর্নেন্স (Governance): ESG-র ভিত্তি স্তম্ভ

পরিবেশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার যতই সুন্দর প্রতিশ্রুতি থাকুক, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য একটি কার্যকর বোর্ড, স্বচ্ছ রিপোর্টিং এবং স্বাধীন তদারকি ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়। এই কারণেই অনেক গভর্নেন্স বিশেষজ্ঞ বলেন, ESG-র আসলে G-টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বাকি দুটি স্তম্ভকে কার্যকর করার কাঠামো তৈরি করে। এই সিরিজের পরের দুটি লেখায় আমরা দেখব কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বোর্ডের বৈচিত্র্য এই গভর্নেন্স কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

গল্পে বলি

একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির বোর্ড একসময় ESG নিয়ে বছরে একটিমাত্র বাক্য লিখত বার্ষিক প্রতিবেদনে, মূলত নিয়মরক্ষার জন্য। নতুন একজন স্বাধীন পরিচালক যোগ দেওয়ার পর তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রতিষ্ঠানের কোনো নির্দিষ্ট ESG লক্ষ্য বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটি নেই কেন। পরের বছর বোর্ড একটি উপ-কমিটি গঠন করে, যারা নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করে এবং বছরে চারবার অগ্রগতি পর্যালোচনা করে। দুই বছরের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি একটি আন্তর্জাতিক ক্রেতার সরবরাহকারী তালিকায় অগ্রাধিকার পায়, মূলত তাদের সুসংগঠিত ESG গভর্নেন্সের কারণে।

কোম্পানিগুলো সাধারণত যে ভুল করে

কোম্পানিগুলো সাধারণত যেসব ভুল করে

  1. 1

    গ্রিনওয়াশিং, বাস্তব কাজ ছাড়া শুধু প্রচার

    অনেক প্রতিষ্ঠান বার্ষিক প্রতিবেদনে আকর্ষণীয় ভাষায় ESG প্রতিশ্রুতি লেখে, কিন্তু পরিমাপযোগ্য কোনো লক্ষ্য বা অগ্রগতি প্রতিবেদন রাখে না।

  2. 2

    ESG-কে শুধু মার্কেটিং বিভাগের দায়িত্ব মনে করা

    বোর্ড ও ব্যবস্থাপনা সরাসরি যুক্ত না হলে ESG উদ্যোগ কখনোই প্রতিষ্ঠানের মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জায়গা পায় না।

  3. 3

    তৃতীয় পক্ষের যাচাই ছাড়া নিজের দাবি প্রকাশ করা

    স্বাধীন নিরীক্ষা বা সার্টিফিকেশন ছাড়া ESG দাবি করলে বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের কাছে তার বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যায়।

  4. 4

    সরবরাহ চেইনের ঝুঁকি উপেক্ষা করা

    নিজের কারখানা ভালো থাকলেও উপ-সরবরাহকারীর দুর্বল শ্রম বা পরিবেশ মান পুরো সরবরাহ চেইনের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

একটি প্রতিষ্ঠানের ESG গভর্নেন্স পরিণত হওয়ার সাধারণ যাত্রা
সচেতনতা ও প্রাথমিক আলোচনা সচেতনতা ও প্রাথমিক আলোচনা লিখিত প্রতিশ্রুতি ও নীতিমালা লিখিত প্রতিশ্রুতি ও নীতিমালা নিয়মিত রিপোর্টিং নিয়মিত রিপোর্টিং বোর্ড-স্তরের তদারকি কমিটি বোর্ড-স্তরের তদারকি কমিটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের যাচাই স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের যাচাই
বিষয় ধাপ
সচেতনতা ও প্রাথমিক আলোচনা ১
লিখিত প্রতিশ্রুতি ও নীতিমালা ২
নিয়মিত রিপোর্টিং ৩
বোর্ড-স্তরের তদারকি কমিটি ৪
স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের যাচাই ৫
বিজ্ঞাপনের জায়গা (সংরক্ষিত)

কেন বিশ্বজুড়ে ESG রিপোর্টিং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে

বিশ্বের বড় পুঁজিবাজারগুলোতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ধীরে ধীরে ESG প্রকাশকে আরও সুনির্দিষ্ট করার দিকে এগোচ্ছেন। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, আগামী বছরগুলোতে এই প্রবণতা উদীয়মান বাজারগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে, কারণ আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনের মাধ্যমে একটি দেশের প্রতিষ্ঠান অন্য দেশের মানদণ্ডের সাথে সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়ে।

গল্পে বলি

একটি আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান বছরে একবার তার সব প্রধান সরবরাহকারীর কারখানা পরিদর্শন করে একটি নিরপেক্ষ অডিট টিমের মাধ্যমে। একটি সরবরাহকারী কোম্পানির মুনাফা ও উৎপাদন ক্ষমতা ভালো থাকলেও অডিটে দেখা যায়, তাদের বোর্ডে কোনো স্বাধীন পরিচালক নেই এবং শ্রমিক অভিযোগ ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করছে না। পরের মৌসুমের অর্ডার কমিয়ে দেওয়া হয়, যতক্ষণ না কোম্পানিটি তার গভর্নেন্স কাঠামো শক্তিশালী করে। এই ঘটনা দেখায়, ESG আজকাল শুধু ঐচ্ছিক সুনামের বিষয় নয়, সরাসরি ব্যবসায়িক সম্পর্কের শর্ত হয়ে উঠছে।

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, আগামী দশকে ছোট ও মাঝারি কোম্পানির ওপরও কি ESG রিপোর্টিংয়ের চাপ বাড়বে?

অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, বড় কোম্পানির সরবরাহ চেইনের অংশ হওয়ার কারণে ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলোর ওপরও ধীরে ধীরে সরলীকৃত ESG প্রকাশের প্রত্যাশা তৈরি হবে, যদিও তা বড় তালিকাভুক্ত কোম্পানির মতো জটিল হবে না।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ESG, কোথায় আমরা আছি

বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প ইতিমধ্যে ESG-র সামাজিক ও পরিবেশগত চাপের মুখোমুখি, মূলত আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের শর্তের কারণে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য বিএসইসির কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড-২০১৮ ইতিমধ্যে গভর্নেন্স স্তম্ভের ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, আগামী দিনে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো পরিবেশ ও সামাজিক প্রকাশের জন্য আরও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা যুক্ত করতে পারে, বিশেষ করে ব্যাংক ও বড় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের জন্য।

কেস স্টাডি

একটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের ESG গভর্নেন্স পুনর্গঠনের দৃষ্টান্তমূলক দৃশ্যকল্প

প্রেক্ষাপট: এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক কাল্পনিক দৃশ্যকল্প, যেখানে একটি মাঝারি আকারের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তার সবচেয়ে বড় ক্রেতার কাছ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা পায়, দুর্বল পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা এবং অস্বচ্ছ বোর্ড কাঠামোর কারণে।

সমস্যা: প্রতিষ্ঠানটির বোর্ডে কোনো স্বাধীন পরিচালক ছিল না এবং পরিবেশগত বিনিয়োগের কোনো পরিকল্পনা ছিল না, ফলে ক্রেতা প্রতিষ্ঠান সরাসরি চুক্তি বাতিলের ঝুঁকির কথা জানায়।

সমাধান: ছয় মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি দুজন স্বাধীন পরিচালক নিয়োগ দেয়, একটি ESG উপ-কমিটি গঠন করে এবং একটি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পরিবেশগত অডিট করায়। পরের মৌসুমে চুক্তি টিকে যায়, এবং প্রতিষ্ঠানটি আরও দুটি নতুন ক্রেতা পায়, যারা সুনির্দিষ্টভাবে তাদের শক্তিশালী গভর্নেন্স কাঠামোর কথা উল্লেখ করে।

এই সিরিজে সামনে যা থাকছে

ESG শুধু এই সিরিজের একটি অংশ। এর পরের লেখাগুলোতে আমরা দেখব কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বোর্ড সিদ্ধান্তে ঢুকে পড়ছে, কীভাবে সাইবার সিকিউরিটি এখন বোর্ডের নিজের দায়িত্ব, কেন জলবায়ু ঝুঁকি বোর্ডরুমের আলোচনায় জায়গা পাচ্ছে, কেন বোর্ডের বৈচিত্র্য গুরুত্বপূর্ণ, কীভাবে ব্লকচেইন রিপোর্টিংকে আরও স্বচ্ছ করতে পারে, কীভাবে রিমোট বোর্ড মিটিং নতুন নিয়ম তৈরি করছে, কেন স্টার্টআপ ও SME দের জন্যও গভর্নেন্স জরুরি, কীভাবে পারিবারিক ব্যবসা পেশাদার গভর্নেন্সে রূপান্তরিত হতে পারে, এবং সবশেষে ২০৩০ সালে গভর্নেন্স কেমন দেখতে পারে তার একটি যুক্তিসঙ্গত পূর্বাভাস।

উপসংহার

ESG আসলে নতুন কোনো আলাদা শাখা নয়, বরং কর্পোরেট গভর্নেন্সের স্বাভাবিক সম্প্রসারণ, যেখানে পরিবেশ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা গভর্নেন্সের কেন্দ্রীয় আলোচনায় জায়গা করে নিচ্ছে। যে প্রতিষ্ঠান আজ থেকেই এই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নেয়, আগামী দশকে তারাই বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের আস্থা সবচেয়ে বেশি পাবে।

প্রশ্নোত্তর

ESG আর CSR এর পার্থক্য কী?

CSR সাধারণত স্বেচ্ছামূলক সামাজিক কার্যক্রম, যেমন দাতব্য অনুদান। ESG অনেক বেশি কাঠামোগত, এটি পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য, রিপোর্টিং এবং গভর্নেন্স তদারকিসহ একটি সামগ্রিক মূল্যায়ন কাঠামো।

ESG রিপোর্টিং বাংলাদেশে কি বাধ্যতামূলক?

বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ ESG রিপোর্টিং সার্বজনীনভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবে গভর্নেন্স অংশটুকু বিএসইসি কোড-২০১৮ এর মাধ্যমে আংশিকভাবে কাঠামোগত।

ছোট কোম্পানির জন্য ESG কি প্রাসঙ্গিক?

হ্যাঁ, বিশেষ করে যদি তারা বড় কোম্পানির সরবরাহ চেইনের অংশ হয়, কারণ ক্রেতা প্রতিষ্ঠান প্রায়ই তাদের সরবরাহকারীর ESG চর্চাও যাচাই করে।

গ্রিনওয়াশিং কী?

বাস্তব পরিবর্তন ছাড়া শুধু প্রচারণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে উপস্থাপন করাকে গ্রিনওয়াশিং বলা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে।

বোর্ডে কি আলাদা ESG কমিটি থাকা জরুরি?

প্রতিষ্ঠানের আকার অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু অনেক গভর্নেন্স বিশেষজ্ঞ মনে করেন, একটি সুনির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-কমিটি থাকলে ESG উদ্যোগ বাস্তবায়ন অনেক বেশি কার্যকর হয়।

ESG স্কোর কীভাবে নির্ধারিত হয়?

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ড ব্যবহার করে, সাধারণত প্রকাশিত তথ্য, নীতিমালা এবং স্বাধীন যাচাইয়ের ভিত্তিতে একটি সামগ্রিক স্কোর তৈরি করা হয়।

ESG আর গভর্নেন্স কি একই জিনিস?

না, গভর্নেন্স ESG-র একটি স্তম্ভ। গভর্নেন্স ছাড়া ESG-র অন্য দুই স্তম্ভ বাস্তবায়নের কোনো কার্যকর কাঠামোই থাকে না।

বিনিয়োগকারীরা কেন ESG নিয়ে চাপ দেয়?

কারণ পরিবেশগত বা সামাজিক ঝুঁকি উপেক্ষা করলে ভবিষ্যতে আইনি জরিমানা, সুনাম সংকট বা ক্রেতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে।

বাংলাদেশের রপ্তানি শিল্পে ESG এর প্রভাব কেমন?

বিশেষ করে পোশাক শিল্পে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের শর্তের কারণে ESG এর প্রভাব ইতিমধ্যে বাস্তব এবং ক্রমবর্ধমান।

ESG রিপোর্টিং এর জন্য কোনো আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড আছে কি?

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন স্বেচ্ছামূলক ফ্রেমওয়ার্ক প্রচলিত আছে, যদিও একটি একক সার্বজনীন মানদণ্ডে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া এখনো চলমান।

মূল বিষয়সমূহ

  • ●ESG মানে Environmental, Social ও Governance, যেখানে গভর্নেন্স স্তম্ভটি বাকি দুটি বাস্তবায়নের ভিত্তি তৈরি করে।
  • ●বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের শর্তের কারণে ইতিমধ্যে ESG চাপের মুখোমুখি।
  • ●গ্রিনওয়াশিং এবং ESG-কে শুধু মার্কেটিং এর বিষয় মনে করা সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলোর একটি।
  • ●একটি প্রতিষ্ঠানের ESG গভর্নেন্স সাধারণত সচেতনতা থেকে শুরু করে স্বাধীন যাচাই পর্যন্ত কয়েকটি ধাপে পরিণত হয়।
  • ●অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ছোট ও মাঝারি কোম্পানির ওপরও ধীরে ধীরে সরলীকৃত ESG প্রত্যাশা তৈরি হবে।
  • ●এই সিরিজের বাকি নয়টি লেখা AI, সাইবার সিকিউরিটি, জলবায়ু ঝুঁকি, বোর্ড বৈচিত্র্য, ব্লকচেইন, রিমোট মিটিং, স্টার্টআপ, পারিবারিক ব্যবসা এবং ২০৩০ এর পূর্বাভাস নিয়ে আলোচনা করবে।
শেয়ার করুন: