মূল অংশে যান
Tame Academy

Stakeholder বনাম Shareholder তত্ত্ব: কাদের স্বার্থ প্রাধান্য পাবে?

03 অক্টো 2026 তারিখে প্রকাশিত

Stakeholder বনাম Shareholder তত্ত্ব: কাদের স্বার্থ প্রাধান্য পাবে?

কর্পোরেট গভর্নেন্সের একটি পুরনো কিন্তু এখনো সক্রিয় তাত্ত্বিক বিতর্ক হলো, একটি কোম্পানির বোর্ড আসলে কার স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেবে। শুধু শেয়ারহোল্ডারের মুনাফার কথা ভাববে, নাকি কর্মী, গ্রাহক, সমাজের মতো বৃহত্তর স্টেকহোল্ডারদের স্বার্থও বিবেচনা করবে। এই প্রশ্নের উত্তর নিয়েই গড়ে উঠেছে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী তত্ত্ব, যা চার স্তম্ভের, বিশেষ করে দায়িত্বশীলতা ও ন্যায্যতার, তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি করে।

বিজ্ঞাপনের জায়গা (সংরক্ষিত)

শেয়ারহোল্ডার তত্ত্ব: ফ্রিডম্যানের মতবাদ

অর্থনীতিবিদ মিল্টন ফ্রিডম্যানের মতবাদ অনুযায়ী, একটি কোম্পানির একমাত্র সামাজিক দায়িত্ব হলো আইনের সীমার মধ্যে থেকে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মুনাফা বাড়ানো। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, যদি বোর্ড শেয়ারহোল্ডারের অর্থ অন্য কোনো সামাজিক উদ্দেশ্যে ব্যয় করে, তাহলে তা মূলত বোর্ডের নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার, কারণ শেয়ারহোল্ডাররা নিজেরাই চাইলে তাদের মুনাফা থেকে সামাজিক কাজে ব্যয় করতে পারতেন।

স্টেকহোল্ডার তত্ত্ব: ফ্রিম্যানের মতবাদ

অন্যদিকে এডওয়ার্ড ফ্রিম্যানের স্টেকহোল্ডার তত্ত্ব বলে, একটি কোম্পানি কেবল শেয়ারহোল্ডারের প্রতি নয়, বরং এমন সব পক্ষের প্রতি দায়বদ্ধ, যাদের ওপর কোম্পানির সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে, যেমন কর্মী, গ্রাহক, সরবরাহকারী, পাওনাদার এবং সমাজ। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদে এই সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করলেই প্রতিষ্ঠান সত্যিকার অর্থে টিকসই হয়ে ওঠে।

গল্পে বলি

দুটি প্রতিষ্ঠানিক প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানির একটি কঠিন অর্থনৈতিক সময়ে কর্মী ছাঁটাই করে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে ত্রৈমাসিক মুনাফা বাড়ায়, যা বিনিয়োগকারীদের তাৎক্ষণিকভাবে খুশি করে। অন্য প্রতিষ্ঠানটি একই সময়ে কর্মী ছাঁটাই এড়িয়ে প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ করে, যার ফলে ত্রৈমাসিক মুনাফা কম দেখায় কিন্তু কর্মীদের দক্ষতা ও আনুগত্য বাড়ে। কয়েক বছর পর বাজার পুনরুদ্ধার হলে দ্বিতীয় কোম্পানিটি অনেক দ্রুত প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা ফিরে পায়, কারণ তাদের দক্ষ কর্মী ধরে রাখা সম্ভব হয়েছিল।

বাস্তবে কোন তত্ত্ব বেশি গ্রহণযোগ্য?

আজকের বাস্তবতায় দুটি তত্ত্বের একটি সংমিশ্রণ দেখা যায়। অধিকাংশ আধুনিক গভর্নেন্স কোড, বিএসইসি কোড-২০১৮ সহ, বোর্ডকে শেয়ারহোল্ডারের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে বলে, কিন্তু একইসাথে কর্মী, পরিবেশ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার কথাও বলে। এই সংমিশ্রিত দৃষ্টিভঙ্গিকে অনেকে "enlightened shareholder value" বলেন, যেখানে শেয়ারহোল্ডারের স্বার্থই প্রধান লক্ষ্য, কিন্তু তা অর্জনের পথে স্টেকহোল্ডারদের স্বার্থ উপেক্ষা করা হয় না।

আপনি কি মনে করেন, একটি কোম্পানি একসাথে শেয়ারহোল্ডার ও স্টেকহোল্ডার, দুই পক্ষকেই পুরোপুরি সন্তুষ্ট রাখতে পারে?

বাস্তবে সব সময় সম্পূর্ণ সন্তুষ্টি সম্ভব নয়, প্রায়ই একটি ভারসাম্যের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তবে ভালো গভর্নেন্সের লক্ষ্য হলো এই ভারসাম্যের সিদ্ধান্তগুলো স্বচ্ছভাবে এবং যুক্তিসহ নেওয়া, যাতে কোনো পক্ষই মনে না করে তাদের স্বার্থ সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হয়েছে।

স্টেকহোল্ডার তত্ত্বে বিবেচিত প্রধান পক্ষগুলো
শেয়ারহোল্ডার: 1 শেয়ারহোল্ডার কর্মী: 1 কর্মী গ্রাহক: 1 গ্রাহক সরবরাহকারী: 1 সরবরাহকারী সমাজ: 1 সমাজ
বিষয় মান
শেয়ারহোল্ডার ১
কর্মী ১
গ্রাহক ১
সরবরাহকারী ১
সমাজ ১
বিজ্ঞাপনের জায়গা (সংরক্ষিত)

প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা

ভুল ধারণা ১, শেয়ারহোল্ডার তত্ত্ব মানে সম্পূর্ণ অনৈতিক আচরণ। ফ্রিডম্যানের মতবাদও আইনের সীমার মধ্যে থাকার কথা বলে, এটি অনৈতিক আচরণকে সমর্থন করে না।

ভুল ধারণা ২, স্টেকহোল্ডার তত্ত্ব মানে মুনাফার গুরুত্ব কমে যাওয়া। বাস্তবে স্টেকহোল্ডার তত্ত্বও মুনাফার গুরুত্ব অস্বীকার করে না, বরং বলে যে দীর্ঘমেয়াদী মুনাফা স্টেকহোল্ডারদের সাথে স্বাস্থ্যকর সম্পর্কের মধ্য দিয়েই আসে।

উপসংহার

শেয়ারহোল্ডার বনাম স্টেকহোল্ডার তত্ত্বের এই বিতর্ক আসলে কর্পোরেট গভর্নেন্সের ন্যায্যতা এবং দায়িত্বশীলতা স্তম্ভের তাত্ত্বিক ভিত্তি গড়ে তোলে। পুরো কাঠামো দেখতে পড়ুন কর্পোরেট গভর্নেন্সের চার স্তম্ভ।

প্রশ্নোত্তর

শেয়ারহোল্ডার তত্ত্ব কে প্রস্তাব করেছিলেন?

অর্থনীতিবিদ মিল্টন ফ্রিডম্যান তার ১৯৭০ সালের একটি প্রবন্ধে এই মতবাদ স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেন।

স্টেকহোল্ডার তত্ত্ব কে প্রস্তাব করেছিলেন?

অধ্যাপক এডওয়ার্ড ফ্রিম্যান ১৯৮৪ সালে তার লেখায় এই তত্ত্বের বিস্তারিত কাঠামো উপস্থাপন করেন।

বিএসইসি কোড-২০১৮ কোন তত্ত্বের অনুসারী?

এটি মূলত একটি সংমিশ্রিত দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে, শেয়ারহোল্ডারের স্বার্থকে প্রাধান্য দিলেও স্টেকহোল্ডারদের স্বার্থ উপেক্ষা না করার কথা বলে।

একজন বিনিয়োগকারী হিসেবে এই তত্ত্ব জানা কেন জরুরি?

কোম্পানির সিদ্ধান্ত গ্রহণের দর্শন বুঝলে বিনিয়োগকারী আরও ভালোভাবে বুঝতে পারেন, সংকটের সময় কোম্পানি কোন দিকে ঝুঁকবে।

শেয়ার করুন: